,

শেষ বেলায় মঞ্চ মাতিয়ে গেলেন পাপন

মিডিয়ামেইল: শেষ হয়ে গেল অনেক অপেক্ষার লোকসঙ্গীত উৎসবের প্রথম দিন। সন্ধ্যা শুরু হতে না হতেই আসতে শুরু করেছিলেন শ্রোতারা। সময়ের হাত ধরে আর্মি স্টেডিয়াম পরিণত হয়েছিল মানুষের সমুদ্রে। প্রথম গান নিয়ে উৎসবের শুরু করে বাউলিয়ানা। এরপর একে একে মঞ্চে আসেন ব্রাজিল, তিব্বত ও বাংলাদেশের শিল্পীরা। সুরের সুধাপানে মত্ত হয়েছিলেন লাখো দর্শক শ্রোতা। তবে কোথায় যেন ঘাটতি ছিল আয়োজনের।

সেই উত্তর মিলল আসামের জনপ্রিয় গায়ক পাপন মঞ্চে আসার পর। ‌‌দিনে দিনে খ্যাত এই গায়ক মঞ্চে আসেন রাত ১১টায়। সারাদিনের ক্লান্তি আর সুরের তালে তাল মেলাতে মেলাতে কিছুটা বুঝি ঝিমিয়ে পড়েছিলেন সবাই। কিন্তু মাইকে পাপেনর নাম ঘোষণা হতেই নতুন করে জেগে উঠল আর্মি স্টেডিয়াম। চিৎকার আর শুভেচ্ছা ধ্বনিতে সারাদিনের প্রতীক্ষার শিল্পীকে স্বাগত জানালেন শ্রোতারা।

পাপন এলেন, হাসলেন সেই চোখ বন্ধ করা মোহিত করা স্টাইলে, গাইলেন দিনে দিনে খসিয়া পড়িবে রঙিলা দালানের মাটি। তার গানে গেয়ে উঠলেন উপস্থিত জনতা। মনের মন্দিরে বেজে উঠল জীবনের হিসেবে মেলানোর ঘণ্টা। মারফতি ধাঁচের অসমিয়া এই লোকগানের জন্যই দিনভর অপেক্ষায় ছিলেন সবাই।

গানের ফাঁকে কথাও বললেন পাপন। জানালেন, সুরের কোনো দেশ নেই, মানচিত্র নেই। সুর থাকে মানুষের অন্তরে। জীবন সুন্দর। তাকে নিয়ে এতো হতাশার কিছু নেই। চিন্তার কিছু নেই। আরাম করুন। জীবন উপভোগ করুন। সুর আর গান হোক সেই উপভোগের সঙ্গী।

তরুণদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ফেসবুক থাকুক তার মতো। সেটা হতে পারে জীবনের একটা বিনোদন। কিন্তু ফেসবুক, টুইটারকে জীবন বানিও না। ওসব ফেলে চারপাশটা তাকিয়ে দেখো সবকিছু কত সুন্দর। রাত আসে, তাতে হতাশা নিও না। অন্ধকার কেটে গিয়ে ফর্সা আলোর সকাল আসবে। গেয়ে বাঁচো।

পাপন তার জনপ্রিয় গানটির পাশাশি অসমিয়া, পাঞ্জাবি, হিন্দিসহ বেশ কিছু ভাষার গান পরিবেশন করে মুগ্ধ করে রাখেন শেষ রাতের উৎসব। তার গানের রেশ নিয়েই ঘরে ফিরছেন মানুষ। নতুন করে আবারও দেখা হবার প্রত্যাশায়। উৎসব তো চলবে আরও দুইদিন। আপাতত বিদায়।

Palash3700

     এই বিভাগের আরও সংবাদ